আপেল সিডার ভিনেগার তৈরীর নিয়ম ও উপকারিতা

আপেল সিডার ভিনেগার (উইথ মাদার) নিজেই তৈরী করুন

ভিনেগার কি?

আপেল সিডার ভিনেগার এর পরিচিতি, ঘরে বসে তৈরী করার নিয়ম, ও মাদারসহ আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার উপকারিতাসহ সকল তথ্য জানতে আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

আপেল সিডার ভিনেগার বা সিডার ভিনেগার হলো এমন একধরনের ভিনেগার যেটি আপেলের রস ও সামান্য লাল চিনি মিশ্রিত ৯০% পানির সংমিশ্রণে তৈরী করা হয়। এবং এটি এক প্রকার Ethanoic acid বা এসেটিক এসিড।

এই ভিনেগার সাধারণত সালাদ, পানি, ভিনাইগ্রেটস, চাটনি ও খাবার সংরক্ষণের প্রক্রিয়া স্বরুপ ব্যবহারিত হয়ে থাকে। এবং মাদারসহ আপেল সিডার ভিনেগার প্রোবায়োটিক খাবার হিসেবেও অনেকে পেটের রোগীদের জন্য খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

নিয়মিত মাদারসহ আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার ফলে ওজন হ্রাস, ত্বকের ইলাস্টিটি, ও পেটের খারাপ বেক্টেরিয়া দূরে ভালো বেক্টেরিয়া বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

এবং এর আরো অনেক উপকরিতা রয়েছে যেগুলো আমরা নিম্নে উল্লেখ করব।

মাদারসহ আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার উপকারিতা

মাদারসহ আপেল সিডার ভিনেগার নিয়মিত খাওয়ার ফলে এই উপকারিতাগুলো পেতে পারেন।

১।  এটি আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

২। শরীরের ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে।

৩। পেটের প্রোবায়োটিক ব্যাক্টেরিয়া বৃদ্ধি করে।

৪। গ্যাস্টিক সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করে।

৫। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৬। টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৭। ত্বকের লাভন্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৮। বয়সের বলি রেখা রোধ করতে সাহায্য করে।

৯। অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

১০। পাকস্থলির এসেডিক Ph ব্যালান্স করে।

১১। ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে।

এই ১১ টি উপকারিতা ছাড়াও মানুষের শরীরের জন্য এই ভিনেগারের অনেক উপকারী গুনাগুন রয়েছে। যেগুলোর অনেকটাই প্রোবায়োটিক খাদ্যের উপকারিতার সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ।

মাদারসহ আপেল সিডার ভিনেগার ঘরে বসে তৈরি করার সহজ নিয়ম

ঘরে বসে আপনি নিজেই আপেল সিডার ভিনেগার তৈরী করার জন্য নিম্নোক্ত উপকরণসমূহ জোগাড় করে নিন।

১, একটি শুষ্ক কাঁচের বয়াম ২, এক কেজি আপেল ৩, সামান্য পরিমাণ লাল চিনি ৪, বিশুদ্ধ পানি ৫, কাঠের চামচ বা এই জাতীয় যে কোন পরিষ্কার জিনিষ।

আসুন আমরা জেনে নিবো খুব সহজে কিভাবে ঘরেই তৈরি করে নিবেন এই ভিনেগার।

আপেল সিডার ভিনেগার উইথ মাদার ঘরে তৈরী করার নিয়ম

প্রথমে আপনি এক কেজি আপেলকে ২ ঘন্টা ভিজিয়ে ফরমালিন মুক্ত করে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।

এরপর আপেলগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন, (এই ক্ষেত্রে বিচি বা বিচির অংশ বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই) এবং আপনার শুষ্ক কাঁচের বয়ামে টুকরোগুলোকে দিয়ে দিন। 

এবং বয়ামটির এক/দুই ইঞ্চি পরিমাণ খালি রেখে বিশুদ্ধ পানি দিয়ে পূর্ণ করে দিন।

এরপর চার চামচ পরিমাণ লাল চিনি বা ব্রাউন সুগার একটি ছোট পাত্রে গুলে কাঁচের বয়ামে ঢেলে দিন, এবং কাঠের চামচ দিয়ে ভালোভাবে মিশ্রণ করে নিন।

সর্বশেষ বয়ামটিকে একটি পরিষ্কার সুতি কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে বয়ামের মুখ আটকে দিন।

এবং সামান্য অন্ধকার বা মানুষ চলাচলহীন স্থানে বয়ামটি রেখে দিন তিন সপ্তাহের জন্য।

এবং দুই দিন পর পর বয়ামের ঢাকনা খুলে অবশ্যই কাঠের চামচ দিয়ে আপেলগুলোকে নিচের দিকে চেপে দিবেন।

তিন সপ্তাহ পর পাতলা একটি সুতি কাপড় দিয়ে ভিনেগারকে ছেঁকে নিবেন। এবং নিচে জমে থাকা অংশটুকুও সামান্য ভিনেগার দিয়ে উঠিয়ে ছেঁকে নিবেন।

সর্বশেষ কাজ হলো ছেঁকে নেয়া ভিনেগারকে পুনঃরায় কাঁচের বয়ামে ঢেলে মুখ বন্ধ করে দিয়ে এক সপ্তাহ অথবা ২ সপ্তাহ পর্যন্ত একটি আদ্রতাপূর্ণ স্থানে রেখে দিবেন।

এবং এই প্রসেসের পর আপনার অর্গানিক আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে যাবে।

বিঃদ্রঃ এই ঘরোয়া আপেল সিডার ভিনেগার তৈরীতে কোন প্রসেসেই কোন প্রকার ধাতব পণ্য ব্যবহার করবেন না। শুধুমাত্র কাঁচের বা কাঠের পণ্য ব্যবহার করবেন।

অন্যথায় আপনার অর্গানিক ভিনেগারের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাবে, এবং মাদারসহ ভিনেগার পাবেন না।

মাদারসহ আপেল সিডার ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম

ভিনেগার খাওয়ার নিয়ম হলো, এই যে, এক গ্লাস পানির সাথে মাদারসহ এক চা চামচ পরিমাণ ভিনেগারকে মিশিয়ে খাবার খাওয়ার আগে খেয়ে নিন।

এভাবে আপনি প্রতিদিন সর্বোচ্চ তিনবার খাবার গ্রহণ করার আগে খেতে পারেন।

তবে আপনি যদি এখন প্রথম ভিনেগার খাওয়া শুরু করেন, তাহলে আধা চামচ করে এক গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে খান।

আপনি চাইলে গরম পানিতে মিশিয়েও খেতে পারেন। এবং ভিনেগারের সাথে লেবুর রস অথবা আধা মিশিয়েও স্বাদ বৃদ্ধি করে খেতে পারেন।

অনেকে আবার ভিনেগারকে সালাদের সাথে মিশিয়ে খেতেও পছন্দ করেন।

ভিনেগারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতাঃ

ভিনেগারে থাকা Ethanoic acid বা এসেটিক এসিড আপনার দাঁতের মাড়ি ক্ষয় করতে পারে। যদি আপনি ভিনেগার সরাসরি পান করেন। অথবা ভিনেগার দিয়ে দাঁত মোড়ান।

সর্বদা ভিনেগারকে প্রসেস করে খাবেন, তথাঃ পানির সাথে অথবা জুস, লেবুর রস, আদার রস এই জাতীয় বস্তুর সাথে মিশিয়ে খাবেন।

এবং ভিনেগার কখনোই মাত্রাতিরিক্ত খাবেন না। আর আপনার যদি ভিনেগারে এল্যার্জি থাকে, তাহলে তা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আপেল সিডার ভিনেগারের পুষ্টিমান

প্রতি ১০০ গ্রাম আপেল সিডার ভিনেগারে ৯৩.৮১% পানি ও ৬.১৯% খনিজ থাকে।

ক্যালসিয়াম থাকে ৭ মিগ্রা, আইরণ ০.২০মিগ্রা, ম্যাগনেসিয়াম ৫ মিগ্রা, ফসফরাস ৮ মিগ্রা, পটাসিয়াম ৭৩ মিগ্রা, সোডিয়াম ৫ মিগ্রা, জিংক ০.০৪ মিগ্রা।

আরো পড়ুনঃ 

কম খরচে জেকে লাইফ স্টাইল ফলো করে কিভাবে ওজন কমাবেন?

ওজন কমানোর সেরা নিরামিষ খাদ্য তালিকা

ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবিরের ডায়েট চার্ট মেনে কিভাবে উৎসব করবেন?

Dr Jahangir Kabir JK Lifestyle PDF Book free download

Tags:

#আপেল সিডার ভিনেগার উইথ মাদার খাওয়ার নিয়ম #আপেল সিডার ভিনেগার উইথ মাদার এর উপকারিতা #আপেল সিডার ভিনেগার উইথ মাদার তৈরির সঠিক নিয়ম

#আপেল সিডার ভিনেগারের পুষ্টিমান #আপেল সিডার ভিনেগার বানানোর নিয়ম #আপেল সিডার ভিনেগার কি? #ভিনেগার কি?

#Apple Cider Vinegar #Apple Cider Vinegar Benefits #Apple Cider Vinegar with mother Benefits

#How to eat Apple Cider Vinegar? #Vinegar Making Process #How to make Vinegar at home?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *