তারাবীহর নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

তারাবীহর নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত | পূর্ণ আলোচনা

তারাবীহর নামাজ

 

তারাবীহর নামাজের বর্ণনা: রমযানুল মুবারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছেকিয়ামে রমযান বা তারাবীহর নামাজ। পবিত্র মাহে রমযানে আমাদের উচিৎ তারাবীহর নামামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত হাসিলের মাধ্যমে রমযানের রাতকে প্রাণবন্ত রাখা।

এবং মাহে রমযানের রাতের সকল ইবাদাত ও সৎ কর্ম: তারাবীহর নামাজ, তাসবীহ-যিকির, কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ ও দুআ দরূদ ইত্যাদি আমল গুরুত্ব সহকারে আদায় করা।

 

 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তারাবীহর নামাজের ফজিলতের ব্যাপারে বলেন

 

مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدّمَ مِنْ ذَنْبِهِ.

عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَ بِعَزِيمَةٍ، فَيَقُولُ: «مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»،

অর্থ: যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও সওয়াবের প্রত্যাশা রেখে কিয়ামে রমযান করবে তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।

 

 তথ্যসূত্র অনলাইন: শরহে সুন্নাহ হাদীস নং ৯৮৮ রিয়াদুস সালেহীন হাদীস নং : ১১৮৭

রমযানের জন্য নির্ধারিত যে বিশেষ আমলটি রয়েছে তা হচ্ছে তারাবীহর নামাজ।

 

 

(তারাবীহর নামাজের হুকুম হলো:)

রাতে এশার নামায আদায় করার পর বিশ রাকাত তারাবীহর নামাজ পড়া সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নারী পুরুষের জন্য সুন্নতে মুআক্কাদাহ।

বস্তুত তারাবীহর নামাজ রমযানের এমন একটি আমলচাঁদ ওঠার পর যার মাধ্যমে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে রমযানের সূচনা পর্ব আরম্ভ করা হয়।

তাই আমাদের উচিৎ তারাবীহর নামাজের ব্যাপারে অত্যন্ত যত্নবান হওয়া। এবং যথাসম্ভব খতমে তারাবীহের প্রতি আগ্রহী হওয়া।

কারণ এতে রয়েছে দ্বিগুণ সাওয়াব সুন্নাত নামাজ আদায়ের সাথে সাথে কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াতের সাওয়াব।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে আমাদের দেশে তারাবীহর রাকাত সংখ্যা নিয়ে এক ধরনের বাদানুবাদ তৈরি করা হয়ে থাকেযা আদৌ কাম্য নয়।

দালীলিকভাবে এটাই সুসাব্যস্ত যেতারাবীহের নামাজ বিশ রাকাত।এ বিষয়ে জানতে আমাদের অন্য পোষ্ট পড়ুন।

তাই আমাদের জন্য আট রাকাত বা বিশ কারাতের বিবাদে জড়িয়ে রমযানের বরকতপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট করা কখনোই উচিৎ নয়। 

রমযানে নফল ইবাদাত ও দান-সদকা করার মাত্রা গাইরে রমযান থেকে বৃদ্ধি করে দিব। এবং রমযানের  পরবর্তী সময়েও তা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।

 

 

 

রমজানে তারাবীহর নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

 

তারাবীহর নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

 

রমযানে সালাতুত তারাবীহ এর যেমন ফজিলত রয়েছে, তেমনিভাবে বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় রমযান মাসে তাহাজ্জুদের গুরুত্ব ও ফজিলত আরো বৃদ্ধি পায়। রমযানের রহমত, বরকত ও নাজাতের কারণে।

শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সময়টি একটি মহিমান্বিত সময়। এ সময় আল্লাহর রহমত-দয়া ও ক্ষমার উদারতা বান্দার প্রতি নিবিষ্ট থাকে।

 

এই সময়টাতে আল্লাহ তা’য়ালা বান্দাদেরকে নিজেই ডেকে ডেকে বলতে থাকেন

 

مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ.

عَنْ ‌أَبِي هُرَيْرَةَ ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:

 يَنْزِلُ رَبُّنَا، تَبَارَك َوَتَعَالَى، كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا. حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ.

فَيَقُولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهٌ» مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهٌ

 

আছে কি কোন বান্দাযে আমাকে ডাকবেআমি তার ডাকে সাড়া দিব।

কেউ কি এমন আছে, যে আমার কাছে কিছু চাইবেআমি তাকে তা দিয়ে দিব।

আছে কি কেউ, যে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেআমি তাকে ক্ষমা করে দিব।

অর্ধ রজনী অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে ফজর পর্যন্ত প্রতি রাতে রাব্বুল আলামীন এভাবে বান্দাকে ডাকতে থাকেন।

তথ্যসূত্র অনলাইন: (দ্র. সহীহ বুখারীহাদীস নং ৬৩২১সহীহ মুসলিমহাদীস নং ৭৫৮) হাদিসটি সনদ ও বিস্তারিত মতলবসহ তথ্যসূত্র থেকে পড়ুন।

 

 

শেষ রাতে বান্দার এ সময়ের ইবাদত আল্লাহর নিকট অতি প্রিয়।

নবী কারীম (সা.) তাহাজ্জুদের ফজিলতের ব্যাপারে বলেন।

 

أَفْضَلُ الصّلَاةِ بَعْدَ الصّلَاةِ الْمَكْتُوبَةِ، الصّلَاةُ فِي جَوْفِ اللّيْلِ.

ফরয নামাযের পর মধ্যরাতের নামায সর্বোত্তম। 

তথ্যসূত্র অনলাইন: সহীহ মুসলিম শরীফ। হাদীস নং ১১৬৩ হাদিসটি সনদসহ দেখতে তথ্যসূত্র দেখুন।

 

পবিত্র মাহে রমযানের রহমত-বরকত ও মাগফেরাতের সাথে যদি আমার/আপনার ভাগ্যে যুক্ত হয়, আল্লাহর দেয়া শেষ রাতের এ খোশখবরিমহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামীের পক্ষ থেকে অসীম দয়া ও অপরাধ ক্ষমার অবারিত ঘোষণা!

মু’মীন বান্দার জন্য এর থেকে প্রিয় ও মোক্ষম মুহূর্ত আর কোনটি হতে পারে! তাই রমযান মাসে তারাবীহর নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত লাভের সাথে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তাহাজ্জুদের  প্রতি মনোযোগী হওয়াটাই মুমিনের শান।

 

 

রমজান মাস তাহাজ্জুদ আদায়ের এক সূবর্ণ সুযোগ।

পবিত্র মাহে রমজানে শেষ রাতে সাহরী খাওয়ার জন্য তো আমাদের এমনিতেই উঠতে হয়।

আপনি-আমি যদি তারাবীহর নামাজ পড়ে গল্প গুজবে কিংবা অযথা সময় না কাটিয়ে সময়মত ঘুমিয়ে পড়ি ।

আর শেষ রাতে একটু আগে জাগ্রত হয়ে, মহান রব্বুল আ’লামীনের অবাধ ক্ষমার ডাকে সাড়া দেই। তাহলে কতইনা সাওয়াব ও রহমতের ভাগী হব।

আমাদের কি এমন কোন আকাঙ্খা নেই? যাহা প্রভুর কাছ থেকে চেয়ে নিবো! এমন কোন প্রয়োজন কিংবা ঋণের বোঝা নেই? যাহা রবের রহমতের মাধ্যমে পূরণ ও লাগব করবো!

আমাদের কি প্রয়োজন নেই রবের মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভ করার? অবশ্যই মু’মীন বান্দার এই সকল প্রয়োজন রয়েছে।

তাই আমাদের উচিৎ শেষ রাতে রমজানের এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে, জায়নামাজে দাঁড়িয়ে রাহমানুর রাহিমের সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি কামনা করা।

 

যদি এভাবে মাহে রমযানে তাহাজ্জুদের অভ্যাস গঠন করা যায়, তাহলে আশা করা যায় বাকি এগার মাস সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবেইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলাই উত্তম তাওফীকদাতা।

 

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের গুরুত্বের সাথে আদায় করার সাথে সাথে,

তারাবীহের নামাজ, তাহাজ্জুদ, যিকির-আযকার ও কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন !! আমীন !!

 

আরো পড়ুন। মাহে রমযানে ওমরা পালনের ফজিলত

 

আমাদের স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট দেখুন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.